এশিয়ার স্পট মার্কেটে স্থিতিশীল এলএনজির দাম

এশিয়ার স্পট মার্কেটে গত সপ্তাহে এলএনজির দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

এশিয়ার স্পট মার্কেটে গত সপ্তাহে এলএনজির দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। পর্যাপ্ত সরবরাহ ও নিম্নমুখী চাহিদা জ্বালানি পণ্যটির দাম স্থিতিশীল রাখার পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স ও মার্কেট স্ক্রিনার।

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় গত সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ১১ ডলার ১০ সেন্টে স্থিতিশীল ছিল।

এ বিষয়ে আর্গাসের হেড অব এলএনজি প্রাইসিং মার্টিন সিনিয়র বলেন, ‘‌উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় স্পট মার্কেটে এলএনজির চাহিদা কম। এছাড়া পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পাশাপাশি মৌসুমি আবহাওয়াও স্বাভাবিক।’

তিনি জানান, তবে গত সপ্তাহে এলএনজির পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। জাহাজে করে এলএনজি এশিয়ায় আনতে এখন আগের তুলনায় বেশি খরচ পড়ছে। এ কারণে এশিয়ার স্পট মার্কেটে জ্বালানি পণ্যটির দাম বর্তমানে ইউরোপের তুলনায় বেশি।

তিনি আরো জানান, বর্তমানে পরিবহন ব্যয় খুব বেশি হলেও তা স্বল্পমেয়াদি। এখন জাহাজ ভাড়া খুব বেশি হলেও আগামী জানুয়ারির জন্য আগাম বুকিং করলে তুলনামূলক সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে।

ড্যাভেনপোর্ট এনার্জি পার্টনার্সের ম্যানেজিং পার্টনার টবি কপসন বলেন, ‘‌বর্তমানে বাজারে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ আছে। চীনে শীতকালে বিদ্যুৎ খাতে যে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়, তা এখনো শুরু হয়নি। তাই বর্তমানে বাজারের চাহিদা পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত এলএনজি দিয়ে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে।’

ইউরোপেও এলএনজির দাম সপ্তাহজুড়ে সীমিত পরিসরে ওঠানামা করেছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস জানিয়েছে, নর্থওয়েস্ট ইউরোপ এলএনজি মার্কার (এনডব্লিউএম) আদর্শে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য গত বৃহস্পতিবার প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ১০ ডলার ১৪ সেন্ট। এটি টিটিএফের (নেদারল্যান্ডসের একটি ভার্চুয়াল গ্যাস ট্রেডিং হাব) ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তির তুলনায় ৫৪ সেন্ট কম।

আর্গাস গত সপ্তাহে এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করেছে প্রতি এমএমবিটিইউয়ে ১০ ডলার ১৭ সেন্ট। স্পার্ক কমোডিটিজ তা নির্ধারণ করেছে এমএমবিটিইউয়ে ১০ ডলার ১৩ সেন্ট।

এফজিইর গ্যাস ও এলএনজি সাপ্লাই অ্যানালিটিকসের পরিচালক সিয়ামাক আদিবি বলেন, ‘ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ এখনো প্রায় ৮৩ শতাংশের মতো রয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকায় চাহিদা কম। কিন্তু এলএনজি আমদানি প্রবাহ স্বাভাবিক আছে।’

স্পার্ক কমোডিটিজের বিশ্লেষক কাসিম আফগান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় পাঠানোর সুযোগ চলতি সপ্তাহে বন্ধ থাকলেও পানামা রুট এখনো খোলা রয়েছে। ফলে এলএনজি ইউরোপমুখী হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

এদিকে আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথে এলএনজির পরিবহন ব্যয় সর্বোচ্চ দৈনিক ৬৮ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথেও এ হার বেড়ে দৈনিক ৪৪ হাজার ৫০০ ডলার নির্ধারণ হয়েছে, যা এ বছরের সর্বোচ্চ।

আরও